Previous
Next

সর্বশেষ

Wednesday, April 15, 2026

পেকুয়ায় দফায় দফায় লবণ মাঠের পলিথিন কেটে তাণ্ডব

পেকুয়ায় দফায় দফায় লবণ মাঠের পলিথিন কেটে তাণ্ডব


খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় লবণ মাঠে দফায় দফায় পলিথিন কেটে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ১২ ও ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুনঘোনা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম ও তার প্রতিবেশী শওকত আলীর মধ্যে লবণ মাঠের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে এবং থানা-আদালতে মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে।

‎অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব বিরোধের জেরে গত রবিবার গভীর রাতে শওকত আলীর লোকজন রেহেনা বেগমের প্রায় ১৪ শতক লবণ মাঠের পলিথিন কেটে নষ্ট করে দেয়। পরদিন সোমবার রাতেও একই কায়দায় রেহেনার বড় ভাই রেজাউল করিমের প্রায় ৬০ শতক জমির পলিথিন কেটে দেওয়া হয়।

‎ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, আমার বোনের সঙ্গে শওকত আলীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় আমাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। শওকত আলী, তার ভাই মুহাম্মদ কালু, আখতার, জাকের হোসেন এ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত।

‎তিনি আরও বলেন, লবণ চাষই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। পলিথিন কেটে দেওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর আগেও কয়েক দফা একই ঘটনা ঘটেছে, এতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

‎রেহেনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের খরিদা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু জায়গা থেকে শওকত আলী গং আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। লবণ মাঠে টংঘর করে পাহারা দিলেও পলিথিন রক্ষা করা যাচ্ছে না। বাধা দিতে গেলে অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়।

‎স্থানীয়রা জানান, চলমান বিরোধের জেরে যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

‎এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Monday, April 13, 2026

পেকুয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে

পেকুয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে


খোরশেদুল ইসলামঃ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক যুবককে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে নগদ দুই লক্ষ টাকা ও হাতের ঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দশেরঘোনা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবকের নাম লোকমান হাকিম (২৪)। তিনি একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনঘোনা এলাকার ওমান প্রবাসী বেলাল উদ্দিনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার বাম চোখের উপরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম রয়েছে।

আহত লোকমান হাকিম বলেন, বিকেলে তিনি নিজ বাড়ি থেকে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে অটোরিকশাযোগে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফাঁশিয়াখালী সবজীবন পাড়া এলাকায় নানার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে দশেরঘোনা জামে মসজিদের কাছে পৌঁছালে সুজাঙ্গীরের নেতৃত্বে তার ভাই আলমগীর, জাহাঙ্গীর,আজম উদ্দিনের ছেলে সাইফুল, রিদুয়ান, গুরা মিয়া, আব্দু ছালামের ছেলে মান্নান, মাহমুদুল করিম,  নতুনঘোনার ফজল করিমের ছেলে মামুনসহ ৮ থেকে ১০ জন লোক গাড়ি গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে

নগদ টাকা ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে সুজাঙ্গীরের নামে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, ওই আইডির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. কালু বলেন, লোকমান আমার ভাতিজা। হামলার সময় আমরা দশেরঘোনা ব্রিজ স্টেশনে ছিলাম। খবর পেয়ে গিয়ে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলা হতে পারে। কিছু দিন আগেও আমার ভাই শওকত আলীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, হামলাকারী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা এখনও বীরদর্পে এলাকায় নানান অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Thursday, April 9, 2026

পেকুয়ায় ১২ বছরেও সংস্কার হয়নি সুতাবেপারী পাড়া সড়ক

পেকুয়ায় ১২ বছরেও সংস্কার হয়নি সুতাবেপারী পাড়া সড়ক

খোরশেদুল ইসলামঃ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় মডেল কেজি স্কুল-সুতাবেপারী পাড়া সংযোগ সড়কটি দীর্ঘ এক যুগেও সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনগুরুত্বপূর্ণ এ গ্রামীণ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ আগে ইট দিয়ে পাকাকরণ করা প্রায় ১২ ফুট প্রস্থের প্রায় এক কিলোমিটারের সড়কটি এখন সম্পূর্ণ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইট উঠে গিয়ে সড়কটি কাঁদামাটিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে, এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মডেল কেজি স্কুল সংলগ্ন এবিসি আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে সুতাবেপারী পাড়া হয়ে বিস্তৃত এ সড়কটি সুতাবেপারী পাড়া, আন্নরআলী মাতবর পাড়া, সাবেক গুলদি চর পাড়া এবং পার্শ্ববর্তী বারবাকিয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম ভরসা। প্রায় পাঁচটি গ্রামের মানুষ উপজেলা পরিষদ, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন।

এছাড়া প্রতিদিন শত শত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে সড়কটির আশপাশে অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে এবং এলাকাটি আবাসিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান হলেও সড়কটির সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফোরকান বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. রাসেল ও আনোয়ার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে হেঁটেও যাওয়া যাচ্ছেনা। খানাখন্দে ভরে গেছে। বড় বড় মাটি ভর্তি পিকআপ ও ডাম্পার গাড়ি সড়কটি একেবারে শেষ করে দিয়েছে। বর্ষায় সড়কটি একেবারে অচল হয়ে যাবে। 

শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের শিক্ষার্থী রিয়া বলেন, প্রতিদিন কলেজে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করি। বৃষ্টির সময় কাদা পানির কারণে হাঁটা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহতও হতে হয়।

অটোরিকশা চালক মানিক বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব। এই সড়কে এখন যাত্রী নেই। 

স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Tuesday, April 7, 2026

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করায় যুবক গ্রেপ্তার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করায় যুবক গ্রেপ্তার




নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোররাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের সৈয়দপুর ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এক্তিয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। মামলা সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এলজিআরডিমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন তিনি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে পীরগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক উম্মে কুলসুম ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদ পারভীন রিপা পীরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলা নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।  পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Monday, April 6, 2026

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ‘চেয়ারপার্সনের সিকিউরিটি ফোর্স’ পরিচয়ে প্রতারণা, পটিয়ায় ভুয়া আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি ও মেটাল ডিটেক্টরসহ প্রতারক গ্রেপ্তার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ‘চেয়ারপার্সনের সিকিউরিটি ফোর্স’ পরিচয়ে প্রতারণা, পটিয়ায় ভুয়া আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি ও মেটাল ডিটেক্টরসহ প্রতারক গ্রেপ্তার


 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলেন এক ব্যক্তি। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের পটিয়া থানা পুলিশ। শনিবার ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রিয়াদ বিন সেলিম (৪০)। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার পাইকপাড়া এলাকার মৃত মো. সেলিম উদ্দীনের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিলেন। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন ধরনের তদবির, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, মামলা থেকে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর পটিয়া থানা পুলিশ তার ওপর নজরদারি শুরু করে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তার নিজের ছবি সংবলিত একটি আইডি কার্ড যেখানে লেখা ছিল “CSF Chairperson’s Security Force” আইডি নম্বর ০১৩। এছাড়া একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি চার্জারসহ ওয়াকিটকি হ্যান্ডসেট, একটি কালো হাতল বিশিষ্ট সিগন্যাল লাইট, তার ছবি সংবলিত একটি মনিটরিং সেল কার্ড, একটি ওয়াকিটকি সদৃশ মোবাইল ফোন এবং একটি আইটেল বাটন মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তিনি নিজেকে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রিয়াদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার দাবি করে ছবি পোস্ট করতেন। তিনি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার গল্প তৈরি করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। এসব ছবি ও পোস্টের মাধ্যমে তিনি মানুষের মধ্যে নিজের সম্পর্কে একটি ভুয়া প্রভাবশালী পরিচয় তৈরি করতেন।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এসব ছবির অনেকগুলোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তদবিরের নামে টাকা আদায় করতেন। সরকারি অফিসে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং অর্থ আদায় করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানায়, কামরুল হাসান নামে এক গ্রেপ্তার আসামি জেলে থাকার সময় তাকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রিয়াদ তার স্ত্রীর কাছ থেকে দুই লাখ পনেরো হাজার তিনশ টাকা হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পরও জামিনের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি বুঝতে পারে এবং পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো বিশ্লেষণ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ট্যাক্স ইন্সপেক্টর, কন্ট্রোল রুম কর্মকর্তা, সার্ভার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি চাকরি নিশ্চিত করার নামে অগ্রিম টাকা নিতেন এবং পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, রিয়াদ ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য ব্যবহার করেও প্রতারণা করতেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিদেশ থেকে পার্সেল এসেছে বলে জানিয়ে তিনি কাস্টমস বা ডেলিভারি চার্জের নাম করে টাকা আদায় করতেন। পরে দেখা যেত ওই পার্সেলের কোনো অস্তিত্বই নেই। এভাবেই তিনি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলার পাশাপাশি নতুন করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।

পটিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রিয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন আরও ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ বলছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ে টাকা দাবি করে, তাহলে যাচাই ছাড়া কাউকে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

Friday, April 3, 2026

পেকুয়ায় টইটং রিজার্ভ ভূমিতে গড়ে উঠা দুইটি অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে বনবিভাগ 

পেকুয়ায় টইটং রিজার্ভ ভূমিতে গড়ে উঠা দুইটি অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে বনবিভাগ 


 খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া। 

পেকুয়ায় উপজেলার টৈটং রিজার্ভ এলাকায় রিজার্ভ ভূমিতে অবৈধভাবে নির্মিত দুইটি পাকা দালান উচ্ছেদ করেছে বনবিভাগ।

 আজ শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীন টৈটং বিটের নবাগত বিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুবিন এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

উচ্ছেদ হওয়া দালান দুটি কেরুণছড়ি এলাকার প্রবাসী আবদু রহিম ও মোস্তাকের বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বের বিট কর্মকর্তা মো. এহেসান দায়িত্বে থাকাকালীন দালাল অলি আহমদের মাধ্যমে পাহাড় কাটাসহ নানা অনিয়ম, অর্থের বিনিময়ে দালান নির্মাণে অনুমতি প্রদান, বনভূমির গাছ নিধন ও বালু উত্তোলনের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে আসছিল। এসব বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে শাস্তিমূলক ভাবে বদলি করে।

স্থানীয় সূত্র জানাযায়, বদলি হওয়ার আগে দালাল অলি আহমদের মাধ্যমে রহিম ও মোস্তাককে টাকার বিনিময়ে পাকা ঘর নির্মাণের অনুমতি দেন এহেসান। নতুন বিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুবিন যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে রিজার্ভ ভুমি রক্ষায় তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযানে নামেন।

বিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুবিন বলেন,বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীনে টইটং বিটের রিজার্ভ ভূমিতে অবৈধভাবে দালান নির্মাণের খবরে পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করে ঘর দুটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

Thursday, April 2, 2026

পেকুয়ার আবু তাহের চৌধুরী বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুতে  শোক জানিয়েছেন আজিম উদ্দিন

পেকুয়ার আবু তাহের চৌধুরী বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আজিম উদ্দিন


কক্সবাজার জেলার রামু কৃতি সন্তান এএসএম আজিম উদ্দিন  এর বন্ধু চট্টগ্রাম কলেজ ৮৭ ব্যাচের  অন্যতম সংগঠক ফরহাদ চৌধুরীর বাবা পেকুয়া জমিদার বাড়ির আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরীর ২য় পুত্র ও পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি  আবু তাহের চৌধুরী (৮৫) ( প্রকাশ বাচ্চু মিয়া),  আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা ১০ মিনিটে পেকুয়াস্থ নিজ বাসবভনে ইন্তেকাল করেছেন( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

‎দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত জমিদার পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য, সাবেক এমএলএ মরহুম আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরীর মেজ সন্তান আলহাজ্ব আবু তাহের চৌধুরী বাচ্চু মিয়া (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।
‎আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা ১০ মিনিটে পেকুয়াস্থ নিজ বাসবভনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
‎তিনি বিএনপি কক্সবাজার জেলা শাখার সহ সভাপতি ও পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
‎মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান, নাতি, নাতনি, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ রাত সাড়ে আটটায় পেকুয়া জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
শোকের মুহূর্তে সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন
 আজিম উদ্দিন বলেন আপনার এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ আপনাকে ও আপনার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দিন।
প্রিয় বন্ধু ফরহাদ চৌধুরীর বাবার  মৃত্যুর সংবাদটি শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। তিনি একজন অত্যন্ত অমায়িক মানুষ ছিলেন, আল্লাহ উনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
শোক প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা আমার জানা নেই। শুধু এই টুকুই বলবো, এই দুঃসময়ে আমি এবং আমার পরিবার আপনার পাশে আছি।
প্রিয়জনের বিচ্ছেদ সহ্য করা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আল্লাহ যেনো তোমাদের পরিবারকে এই শোক সইবার মানসিক ক্ষমতা দান করেন।
 তিনি আরো বলেন উনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু ওনার রেখে যাওয়া আদর্শ স্মৃতি আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে।তোমাদের পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমার গভীর সমবেদনা গ্রহণ করুন যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে আপনার পরিবারের পাশে পাবেন।
 মৃত্যু জীবনের এক অমোঘ নিয়ম, মহান আল্লাহ তোমাদের  প্রিয়জনকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন


 একজন ভালো মানুষকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব ওনার অভাব আমরা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করবো।
 আমি জানি কোনো সান্ত্বনাই আপনার মনের কষ্ট কমাতে পারবে না, তবুও রবের কাছে প্রার্থনা করি, যেনো তিনি আপনার হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরিয়ে দেন। মানুষের জীবন প্রদীপের মতো। একদিন নিভে যায় তবে ওনার ভালো কাজের আলো আমাদের পথ দেখাবে আজীবন

শোকবার্তায়,
এএসএম আজিম উদ্দিন 
সহসভাপতি কক্সবাজার জেলা সমিতি , চট্টগ্রাম ।
সাবেক সভাপতি , ১৮শ বিসিএস এসোসিয়েশন , চট্টগ্রাম বিভাগ । 
স্থায়ী সদস্য - চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব লিঃ  কক্সবাজার ক্লাব লিঃ.