খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া:
পেকুয়া থানায় ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনা বেশকয়েকটা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পেকুয়ার সেই মা-মেয়েকে সাজা দেওয়ার ঘটনাটি আলোচনায় আসে। পরে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত গতকাল শনিবার (৮ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি শেষে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)-কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় পৈতৃক বসতভিটা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ দণ্ড প্রদান করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।
জানা যায়, চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন একটি জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষ। মামলার বাদী জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষে সুপারিশ দেওয়ার আশ্বাসে এসআই পল্লব তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও তিনি বিবাদীপক্ষের অনুকূলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু টাকা ফেরত চাইতে পেকুয়া থানায় গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় মা-মেয়েকে মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে এনে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এরপর গত ৫ মার্চ “থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা” শিরোনামে দৈনিক মেহেদী পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক সহ নানান স্যোশাল মিড়িয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ সুস্থ তদন্ত ও দায়ীদের জবাব দিহিতা নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।
পরবর্তীতে শনিবার (৮ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষেব মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।






