খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া :
পেকুয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতার জমির জবর দখল ঠেকানো গেলনা, পেশী শক্তি নিয়ে একদল দূবৃর্ত্তরা ছাত্রদল কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতির ভোগ দখলীয় ও মালিকানাধীন ফসলি জমিতে হানা দেয়। এ সময় ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে জমিতে অনুপ্রবেশসহ জবর দখল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।
এ দিকে ৩.৩৩ শতক জায়গা নিয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটায় দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে,বিরোধীয় জায়গা নিয়ে চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে মামলা চলমান রয়েছে। গ্রাম আদালতে রায় প্রচার আছে দু'পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে বৈঠক হয়, শালিলি রোয়েদাদও দেওয়া আছে। তবে এসব কিছু না মেনেই ছাত্রদলের এ নেতার জমি কুক্ষিগত করেছে প্রভাবশালী চক্রের।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের তেলিয়াকাটায় ৩.৩৩ শতক জায়গা নিয়ে স্থানীয় মৃত মাস্টার আবদুচ সাত্তারের পুত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রদল শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: আলাউদ্দিনের সাথে একই ইউনিয়নেরঃ সিকদার পাড়ার চাঁদ মিয়ার পুত্র শাহজানের মধ্যে বিরোধ চলছিল। যার বি.এস ৪৪২ দাগের আন্দরে ৩.৩৩ শতক জায়গা মৃত আনজু মিয়ার রেখে যাওয়া প্রায় ১০ জন ওয়ারিশ থেকে তাদের প্রাপ্ত অংশ বিগত ০৪-১১- ২০২৫ সালে ২২৭৭ নং কবলামূলে আলা উদ্দিনকে বিক্রি করে।
সেই সময় থেকে এ জায়গা আলা উদ্দিনের ভোগ দখলসহ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, পরবর্তীতে খরিদ মালিক আলা উদ্দিনের নামে সৃজিত বি.এস ২০২৬ নং খতিয়ান প্রচার আছে। অপরদিকে একই অংশ থেকে মৃত আনজু মিয়ার দুই ওয়ারিশ আবু বক্কর ও লাল মিয়া থেকে সিকদারপাড়ার চাঁদ মিয়ার পুত্র শাহজাহানও ২ শতক মতো জমি ০৯-০১-২০২৫ ইংরেজি ১৪১১ দলিল মূলে খরিদ করে। শাহজাহান সেখানে বাড়িও নির্মাণ করেছেন,তিনিও পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। অভিযোগ উঠেছে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারী শাহজাহানসহ তার অনুগত লোকজন নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও দুবাই প্রবাসী আলা উদ্দিনের খরিদকৃত ভোগ দখলীয় জমিতে হানা দেয় এ সময় তারা ফসলি জমিতে ঘেরাবেড়া দিয়ে জবরদখল চেষ্টা চালায়। শাহজাহানের পাকা বাড়ির লাগোয়া পূর্ব পাশের এ জমি আলা উদ্দিনের ভোগ দখলে ছিল। জবর দখলের কুমানসে শাহজাহান এ কান্ড করেছে বলে আলা উদ্দিনের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
জমি নিয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী আদালতে ২৩৮/৩৬ সিআর মামলা রুজু করা হয়, আলাউদ্দিনের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক আলমগীর বাদী হয়ে শাহজাহানকে বিবাদী করা মামলা করা হয়, এ ছাড়াও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে ৫৬৪/২৪ মামলা রুজু করে। কাগজপত্র পর্যালোচনাসহ একাধিক শুনানির পর ২০২৪ সালের ৯ই জানুয়ারি গ্রাম আদালত রায় দেন এতে আলাউদ্দিনের অনুকুলে জমির স্থিতি নির্দিষ্ট করনের জন্য আদেশে বলা হয়। শাহজাহানকে ওই জমির জবর দখল থেকে বিরত থাকতে বলা হয় একই বিষয়ে সালিসি বৈঠক হয়। সিকদারপাড়ার জাফর আলম, সাবেক সদস্য শাহ জামাল, জালাল উদ্দীনসহ সালিসি প্রতিনিধিরা রোয়েদাদ প্রচার করে। এ রায়ও আলা উদ্দিনের কাগজপত্র ও স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এমনকি শাহজাহানকে জমিতে অনুপ্রবেশে নিষেধ করে, এ ব্যাপারে আলা উদ্দিনের বড় ভাই আলমগীর বলেন-এ জমি আমার ভাইয়ের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি। আমরা শান্ত প্রকৃতির মানুষ তবে চরম ভাবে অন্যায় হচ্ছে আমাদের উপর। আমি ও আমার ভাই বিএনপির নিবেদিত কর্মী। মন্ত্রী মহোদয়ের দু:সময়ে কাছে থেকেছি, উনার প্রতি আহবান করছি যারা এ অন্যায়ের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হউক। দুবাই থেকে মুঠোফোনে আলা উদ্দিন বলেন- আমি প্রবাসে আছি এ সুবাদে শাহজাহান আমার জায়গা জবরদখল করে রেখেছে। শাহজাহান ক্রয় করছে ১ গন্ডার মতো জমি আমি ক্রয় করেছি ৩.৩৩ শতক। সে নিয়েছে ২'জন থেকে কবলা। আর আমি একই খতিয়ানের আনজু মিয়ার ১০ জন ওয়ারিশ থেকে কবলা নিয়েছি।
আমার কবলার সব সম্পত্তি শাহজাহান জবর দখল করে রেখেছে অনেক বছর বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ ছিল। এখন আমাদের দল রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় কেন আমরা অবিচার ও জুলুমের শিকার হব। আমি কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম ছাত্রদলের চট্টগ্রাম আইন কলেজে। দুর্দিনের কর্মী হিসেবে শহীদ জিয়ার আদর্শের অনুসারীদের অনুরোধ করব আসুন এখনো যারা আমাদেরকে হয়রানি ও জুলুম করছে এদেরকে প্রতিহত করি। ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে সকলকে। পেকুয়া থানার ওসি খায়রুল আলম জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






