Previous
Next

সর্বশেষ

Saturday, March 14, 2026

পেকুয়ায় ছুরি–হাতুড়ি নিয়ে ‘দুবাই জোন’ দোকানে মাদক কারবারির তাণ্ডব

পেকুয়ায় ছুরি–হাতুড়ি নিয়ে ‘দুবাই জোন’ দোকানে মাদক কারবারির তাণ্ডব


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া উপজেলার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের এসডিসিটি সেন্টারের ‘দুবাই জোন’ নামের একটি কসমেটিকস দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত লোকমান পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাইম্যাখালী এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত লোকমান প্রকাশ্যে ছুরি ও হাতুড়ি নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালায়। এতে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম ভীতি সৃষ্টি হয়। তার এমন তাণ্ডবে পাশের ব্যবসায়ীরাও ভয়ে এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে সহায়তা করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকমান এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ইয়াবা বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবা বিক্রি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাদেরকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ক্ষতিগ্রস্ত ‘দুবাই জোন’ দোকানের এক কর্মচারী জানান, অভিযুক্ত লোকমানের এক ভাই তাদের দোকানে চাকরি করেন। ভাইদের পারিবারিক বিরোধের জেরে লোকমান দোকানে ঢুকে চুরি ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইমরুল জানান,  ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Friday, March 13, 2026

পেকুয়ায় সহমর্মিতার ঈদ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পেকুয়ায় সহমর্মিতার ঈদ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত


 

খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া 

পেকুয়ার রাজাখালীতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক বিপ্লব এবং রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচি ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির আওতায় রাজাখালী ইউনিয়নের ২০টি হেফজখানা ও নূরানী মাদ্রাসার বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ২০ জন শিক্ষকসহ মোট ১২০ জনকে ঈদবস্ত্র প্রদান করা হয়। পরে সংগঠনের সদস্যসহ মোট প্রায় ২৪০ জনের উপস্থিতিতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা আলী জাফর সাদেক বলেন, “রমজান আমাদের সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অবহেলিত এতিম, নূরানী ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এছাড়া বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিপ্লবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ. এম. কামরুল কবির আজাদ হিরো, রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিজবাহ উদ্দীন এবং রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনর রশীদ।


অনুষ্ঠানে রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের সভাপতি কৃষিবিদ ম. ফ. ম. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগ একটি অনন্য নিদর্শন বহন করে। কারণ আমরা সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জায়গা—এতিম নূরানী ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।


উল্লেখ্য যে, সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির আওতায় ২০২২ সাল থেকে রাজাখালী ইউনিয়নে এ পর্যন্ত নানা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Thursday, March 12, 2026

পেকুয়ায় বেপরোয়া জইক্যা ডাকাত: ভাইয়ের বাড়িতে গুলিবর্ষণ, জনপদে আতঙ্ক

পেকুয়ায় বেপরোয়া জইক্যা ডাকাত: ভাইয়ের বাড়িতে গুলিবর্ষণ, জনপদে আতঙ্ক


 

​খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়াঃ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই ডজনেরও বেশি মামলার আসামি কুখ্যাত জকির ওরফে জইক্যা ডাকাতের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজ ভাইয়ের বসতবাড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পেকুয়ার রাজাখালী ও সীমান্তবর্তী টইটং ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাখালী ইউনিয়নের লালজান পাড়ার মৃত বজল আহমদের ছেলে জইক্যা ডাকাত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। তার ভাই গরু ব্যবসায়ী নবী হোসেন অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত সপ্তাহে জইক্যা ডাকাত তার অপর ভাই মাহাবুব আলমসহ ৪-৫ জন সশস্ত্র সহযোগী নিয়ে নবী হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রকাশ্য গুলিবর্ষণ করে এবং বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

​সীমান্তবর্তী গ্রামেও আতঙ্ক: গুলিবর্ষণের শব্দে শুধু লালজান পাড়াই নয়, পার্শ্ববর্তী টইটং ইউনিয়নের কাঞ্চন পাড়ার বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কাঞ্চন পাড়ার বাসিন্দা আইয়ুব, জেবর মুল্লুক ও রোকেয়া জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দে তাদের ঘরের টিন কেঁপে ওঠে। পরে তারা জানতে পারেন, লালজান পাড়ায় দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে ছোঁড়া গুলির খোসা তাদের বাড়ির ওপর এসে পড়েছে। এরপর থেকে নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের।

​অভিযোগের পাহাড়: এলাকাবাসীর দাবি, জইক্যা ডাকাতের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। কবির হোসেন ও রাজুসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যা হলেই জইক্যা ও তার সহযোগীরা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাকে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। দ্রুত এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​অভিযুক্তের বক্তব্য: এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জকির ওরফে জইক্যা ডাকাতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

​প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা: বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রাজাখালী ও টইটং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

কক্সবাজার জেলা কারাগারে অনিয়মের অভিযোগ, জেলার দেলোয়ারকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

কক্সবাজার জেলা কারাগারে অনিয়মের অভিযোগ, জেলার দেলোয়ারকে ঘিরে নানা প্রশ্ন



 ফরহাদ উদ্দীন মিজবাহ কক্সবাজার 

বন্দিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, মোবাইল ও মাদক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার জেলা কারাগার-এ। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার দেলোয়ার। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কারাগারের ভেতরে থাকা কয়েকজন বন্দি এবং জামিনে মুক্ত হওয়া কিছু হাজতির দাবি, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে সেখানে একটি ঘুষভিত্তিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কারাগারের কিছু কর্মকর্তা ও কারারক্ষী বন্দিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করেন এবং এসব কার্যক্রমের পেছনে উচ্চপর্যায়ের প্রভাব রয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজতি জানান, তাকে ডিটেনশন আসামি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় সেলে আটকে রাখা হয়। পরে সাধারণ বন্দিদের মতো সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং তাকে আরও দীর্ঘ সময় সেলে আটকে রাখা হয় এবং বিভিন্ন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বন্দিদের অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সুবিধা পেতে আলাদা আলাদা অর্থ দিতে হয়। যেমন—ওয়ার্ড পরিবর্তন, সেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ, বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি।

কারাগারে মাদক প্রবেশের অভিযোগ

কিছু বন্দির দাবি, কারাগারের ভেতরে গাঁজা, ইয়াবা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য প্রবেশ করছে। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এমনকি মাদক সেবনের জন্য আলাদা স্থান বা ওয়ার্ডও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুয়া অসুস্থতা দেখিয়ে হাসপাতালের সুবিধা

আরও অভিযোগ রয়েছে, কারা হাসপাতালে কিছু বন্দিকে ভুয়া রোগী দেখিয়ে মাসিক অর্থের বিনিময়ে আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়। এর জন্য মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বন্দি।

মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ

বন্দিদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভাবশালী কিছু আসামিকে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। এর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

জামিনে মুক্ত হওয়া নুরুল আবছার নামের এক ব্যক্তি বলেন, “কারাগারের ভেতরে টাকা থাকলে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। মাদক থেকে শুরু করে মোবাইল—সবই টাকার বিনিময়ে পাওয়া সম্ভব।” তিনি আরও জানান, ক্যান্টিনের বাইরে আলাদা রান্নার ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে এক কেজি রান্না করা গরুর মাংসের দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলার দেলোয়ার কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলা কারাগার দেশের অন্যতম বড় কারাগার। এখানে প্রায় তিন হাজারের বেশি বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা বন্দি, মাদক মামলার আসামি এবং বিভিন্ন মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও আছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা দেশের কারা ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

Sunday, March 8, 2026

কয়েকটা গনমাধ্যমে   সংবাদ প্রকাশের পর সেই মা-মেয়ের খালাস

কয়েকটা গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেই মা-মেয়ের খালাস


 খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া:

পেকুয়া থানায় ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনা বেশকয়েকটা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পেকুয়ার সেই মা-মেয়েকে সাজা দেওয়ার ঘটনাটি আলোচনায় আসে। পরে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত গতকাল শনিবার (৮ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি শেষে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)-কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় পৈতৃক বসতভিটা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ দণ্ড প্রদান করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।
জানা যায়, চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন একটি জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষ। মামলার বাদী জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষে সুপারিশ দেওয়ার আশ্বাসে এসআই পল্লব তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও তিনি বিবাদীপক্ষের অনুকূলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু টাকা ফেরত চাইতে পেকুয়া থানায় গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় মা-মেয়েকে মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে এনে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এরপর গত ৫ মার্চ “থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা” শিরোনামে দৈনিক মেহেদী পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক সহ নানান স্যোশাল মিড়িয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ সুস্থ  তদন্ত ও দায়ীদের জবাব দিহিতা নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।
পরবর্তীতে শনিবার (৮ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষেব মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

Wednesday, March 4, 2026

উপজেলার ইতিহাসে প্রথম "সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন

উপজেলার ইতিহাসে প্রথম "সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন

                       পেকুয়ার ইমন ও জাওয়াদের স্কাউটিংয়ে নতুন মাইলফলক
 

খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপজেলার স্কাউটিং অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউটসের স্কাউট শাখার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা "সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন করেছেন পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের দুই মেধাবী সদস্য—স্কাউট মোহাম্মদ ইমন ও স্কাউট ইফতেখার হোসেন জাওয়াদ। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পেকুয়া উপজেলা এবং পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপ জাতীয় পর্যায়ে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভের গৌরব অর্জন করল।

গতকাল (৩ মার্চ) বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক উনু চিং স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৫ সালের জন্য সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে চূড়ান্তভাবে ইমন ও জাওয়াদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা স্থানীয় স্কাউটিং অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন স্কাউটদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। একজন স্কাউটকে ধাপে ধাপে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বিভিন্ন দক্ষতায় পারদর্শিতা প্রমাণ করতে হয়।

এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য স্কাউটদের যেসব যোগ্যতা অর্জন বাধ্যতামূলক—স্কাউটিংয়ের মৌলিক ও অগ্রসর ধাপ সম্পন্ন করা, পুষ্টি স্যালাইন প্রস্তুত ও প্রয়োগে দক্ষতা, শিশু স্বাস্থ্য ও টিকাদান বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান, জাতীয় পর্যায়ের লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে বাস্তব সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও তার প্রামাণ্য উপস্থাপনাও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইমন ও জাওয়াদ দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়া এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তাদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্পেইন পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন স্বেচ্ছাসেবামূলক সহায়তা, দরিদ্র মানুষের মাঝে সহায়তা বিতরণ, টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমে সহযোগিতা।

স্থানীয় ভাবে তাদের এই ধারাবাহিক কাজই জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সুগম করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ও গ্রুপ স্কাউট লিডার স্কাউটার মো. আরকান বলেন,

“এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের অর্জন। ইমন ও জাওয়াদের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে—সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পেকুয়ার স্কাউটরাও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম। আমরা কোয়ালিটি স্কাউটিং জোরদার করতে কাজ করছি।”

গ্রুপের সভাপতি স্কাউটার জাকের আহমদ বলেন,

“সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড একজন স্কাউটের জীবনে বড় মাইলফলক। এই অর্জন নতুন প্রজন্মের স্কাউটদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

উপজেলা স্কাউটসের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, এই সাফল্যের ফলে পেকুয়ায় স্কাউটিং কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্কাউটিং কেবল সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক ও নেতৃত্ব বিকাশের প্ল্যাটফর্ম। স্কাউটরা এখানে শেখে আত্মনির্ভরশীলতা, দলগত নেতৃত্ব, দুর্যোগে মানবিক সহায়তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা।

স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েলের বিখ্যাত উক্তি—“পৃথিবীকে যেমন পেয়েছ, তার চেয়ে সুন্দর করে রেখে যেতে চেষ্টা কর”—ইমন ও জাওয়াদের অর্জনের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় স্কাউট মোহাম্মদ ইমন ও স্কাউট ইফতেখার হোসেন জাওয়াদ বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বও। আমরা আমাদের অর্জন উৎসর্গ করছি আমাদের অভিভাবক ও স্কাউট লিডারদের প্রতি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই এবং সমাজসেবামূলক কাজ আরও বিস্তৃত করতে চাই।”

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পেকুয়া উপজেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই অর্জন স্থানীয় তরুণদের মধ্যে স্কাউটিং নিয়ে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্কাউটিং সম্প্রসারণ এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জন সম্ভব। পেকুয়ার স্কাউটিং অঙ্গনে এই সাফল্য এখন গর্বের পাশাপাশি নতুন প্রত্যাশারও সূচনা করেছে।

কক্সবাজার সমুদ্রবেলা সহ ৪ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এডিআইজি আপেলের জিডি!

কক্সবাজার সমুদ্রবেলা সহ ৪ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এডিআইজি আপেলের জিডি!


খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া।

নানা অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক শাহেদ ফেরদৌস হিরু এবং সমুদ্রবেলা সহ আরও দুইটি অনলাইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছে টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

৩ মার্চ (মঙ্গলবার) কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তিনি এই জিডি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন- সংবাদ প্রকাশ করার কারণে তার পেশাগত দক্ষতায় ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে এবং সামাজিক পারিবারিক ভাবে মানহানী হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রবেলায় প্রকাশিত ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্যকে তিনি কাল্পনিক বলে দাবী করেন।

এদিকে সাংবাদিক নেতাদের দাবি- একজন পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক জিডির মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।

এঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আজিম নিহাদ এক বিবৃতিতে দাবী করেন- দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। 

তারা অবিলম্বে জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।