Previous
Next

সর্বশেষ

Wednesday, March 4, 2026

উপজেলার ইতিহাসে প্রথম "সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন

উপজেলার ইতিহাসে প্রথম "সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন

                       পেকুয়ার ইমন ও জাওয়াদের স্কাউটিংয়ে নতুন মাইলফলক
 

খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপজেলার স্কাউটিং অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউটসের স্কাউট শাখার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা "সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন করেছেন পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের দুই মেধাবী সদস্য—স্কাউট মোহাম্মদ ইমন ও স্কাউট ইফতেখার হোসেন জাওয়াদ। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পেকুয়া উপজেলা এবং পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপ জাতীয় পর্যায়ে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভের গৌরব অর্জন করল।

গতকাল (৩ মার্চ) বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক উনু চিং স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৫ সালের জন্য সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে চূড়ান্তভাবে ইমন ও জাওয়াদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা স্থানীয় স্কাউটিং অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন স্কাউটদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। একজন স্কাউটকে ধাপে ধাপে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বিভিন্ন দক্ষতায় পারদর্শিতা প্রমাণ করতে হয়।

এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য স্কাউটদের যেসব যোগ্যতা অর্জন বাধ্যতামূলক—স্কাউটিংয়ের মৌলিক ও অগ্রসর ধাপ সম্পন্ন করা, পুষ্টি স্যালাইন প্রস্তুত ও প্রয়োগে দক্ষতা, শিশু স্বাস্থ্য ও টিকাদান বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান, জাতীয় পর্যায়ের লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে বাস্তব সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও তার প্রামাণ্য উপস্থাপনাও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইমন ও জাওয়াদ দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়া এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তাদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্পেইন পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন স্বেচ্ছাসেবামূলক সহায়তা, দরিদ্র মানুষের মাঝে সহায়তা বিতরণ, টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমে সহযোগিতা।

স্থানীয় ভাবে তাদের এই ধারাবাহিক কাজই জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সুগম করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ও গ্রুপ স্কাউট লিডার স্কাউটার মো. আরকান বলেন,

“এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের অর্জন। ইমন ও জাওয়াদের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে—সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পেকুয়ার স্কাউটরাও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম। আমরা কোয়ালিটি স্কাউটিং জোরদার করতে কাজ করছি।”

গ্রুপের সভাপতি স্কাউটার জাকের আহমদ বলেন,

“সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড একজন স্কাউটের জীবনে বড় মাইলফলক। এই অর্জন নতুন প্রজন্মের স্কাউটদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

উপজেলা স্কাউটসের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, এই সাফল্যের ফলে পেকুয়ায় স্কাউটিং কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্কাউটিং কেবল সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক ও নেতৃত্ব বিকাশের প্ল্যাটফর্ম। স্কাউটরা এখানে শেখে আত্মনির্ভরশীলতা, দলগত নেতৃত্ব, দুর্যোগে মানবিক সহায়তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা।

স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েলের বিখ্যাত উক্তি—“পৃথিবীকে যেমন পেয়েছ, তার চেয়ে সুন্দর করে রেখে যেতে চেষ্টা কর”—ইমন ও জাওয়াদের অর্জনের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় স্কাউট মোহাম্মদ ইমন ও স্কাউট ইফতেখার হোসেন জাওয়াদ বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বও। আমরা আমাদের অর্জন উৎসর্গ করছি আমাদের অভিভাবক ও স্কাউট লিডারদের প্রতি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই এবং সমাজসেবামূলক কাজ আরও বিস্তৃত করতে চাই।”

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পেকুয়া উপজেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই অর্জন স্থানীয় তরুণদের মধ্যে স্কাউটিং নিয়ে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্কাউটিং সম্প্রসারণ এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জন সম্ভব। পেকুয়ার স্কাউটিং অঙ্গনে এই সাফল্য এখন গর্বের পাশাপাশি নতুন প্রত্যাশারও সূচনা করেছে।

কক্সবাজার সমুদ্রবেলা সহ ৪ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এডিআইজি আপেলের জিডি!

কক্সবাজার সমুদ্রবেলা সহ ৪ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এডিআইজি আপেলের জিডি!


খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া।

নানা অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক শাহেদ ফেরদৌস হিরু এবং সমুদ্রবেলা সহ আরও দুইটি অনলাইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছে টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

৩ মার্চ (মঙ্গলবার) কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তিনি এই জিডি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন- সংবাদ প্রকাশ করার কারণে তার পেশাগত দক্ষতায় ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে এবং সামাজিক পারিবারিক ভাবে মানহানী হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রবেলায় প্রকাশিত ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্যকে তিনি কাল্পনিক বলে দাবী করেন।

এদিকে সাংবাদিক নেতাদের দাবি- একজন পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক জিডির মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।

এঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আজিম নিহাদ এক বিবৃতিতে দাবী করেন- দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। 

তারা অবিলম্বে জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

Monday, March 2, 2026

মোড়েলগঞ্জে সোহেল খান ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

মোড়েলগঞ্জে সোহেল খান ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন


 

তরিকুল মোল্লা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় সোহেল খান ও তার কথিত সহযোগীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিহত আবুল কালাম খানের পরিবার ও স্বজনরা। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ঢেপুয়ারপাড়, চিংড়াখালী এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সোহেল খানের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র প্রদর্শন ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। বক্তারা বলেন, আবুল কালাম খানের হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করছে। প্রতিনিয়ত জীবননাশের হুমকি পাচ্ছে তারা। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে মানববন্ধনে জানান।

নিহত আবুল কালাম খানের পুত্র মামলার বাদী মিঠুন খান দাবি করে বলেন, প্রকাশ্যে হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সবাই। দ্রুত সোহেল খান, মাকসুদ মাওলানা, রঞ্জু খান, আলামিন মাওলানাসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মানববন্ধনে বক্তারা জেলা পুলিশের ভূমিকা নিয়োগ প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন ঘটনার এতদিন পার হয়ে গেলেও কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ। অথচ আসামিদের সাথে যোগাযোগ করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ও সি সাহেব ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছে। তারা অনতিবিলম্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Friday, February 27, 2026

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়াঃ

 কক্সবাজার চকরিয়ায় অবৈধভাবে ছড়াখাল থেকে সেলো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্রধারী বালু খেকো সন্ত্রাসীদের হামলায় তিন সাংবাদিক আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫ জনের অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থানায় মামলাটি করেছেন আহত সাংবাদিক দৈনিক আমার দেশ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি এ.কে.এম ইকবাল ফারুক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন- নাজিম উদ্দিন (৪৬),শাহাব উদ্দিন (৪৪),নুরুল আলম (৩৫), আবদুল নুর (৫০),মহি উদ্দিন (৩৮),মোঃ মানিক (৩২), সাইফুল ইসলাম (৫৫),হুবাইব (২৫), জুনাইদ (২২),মোঃ হাসান (৩৫),মোহাম্মদ (৪৮) সহ অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আহত তিন সংবাদকর্মী হলেন-দৈনিক কালের কন্ঠ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ,দৈনিক আমার দেশ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জিয়াবুল হক।

জানা যায়,গত রোববার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারির ডেবা এলাকার ছড়াখালে সেলো মেশিন বসিয়ে রাতদিন বালু উত্তোলন করছে নাজেম উদ্দিন নামের এক বালু খেকো। এসব বালু রাতের আধারে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে নাজেম উদ্দিন। স্থানীয়রা এসব নিয়ে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে। ট্রাকে করে বালু পাচারের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা- সেতু। নাজেম উদ্দিন ওই ছড়াখাল থেকে সরকারিভাবে বালু তোলার অনুমতি পায়। কিন্তু সে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে সেলো মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। যা সরাসরি ইজারা শর্ত লঙ্গন করেছে।

 এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আহত তিন সাংবাদিক কালের কন্ঠের প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ,আমার দেশ ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদের জিয়াবুল হক সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর বর্বরতা হামলায় চালায়। আহত অবস্থায় প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের দেশীয় অস্ত্রের দিয়ে মারধরের আঘাতে সাংবাদিক জিয়াবুলের একটি হাতে গুরুতর জখম হয়। তার হাতে হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে। ফারুকের হাতের তালুতে কেটে যায়। ছোটন কান্তি নাথের মাথায় ও হাতে-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ছোটন কান্তি নাথ ও জিয়াবুলের অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে চকরিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন পেকুয়ার আলোকে বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে,তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Monday, February 23, 2026

নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫

নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫


 নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫


উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল :

নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের দুই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যা গ্রুপ এবং উজ্জ্বল শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ উভয় পক্ষের নিহতের সংখ্যা ৫ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্তত ৭-৮ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন, উপজেলার বড়কুলা গ্রামের উজ্জ্বল শেখ গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন এবং তার ছেলে মুন্না শেখ এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যা গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক দুই চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যা ও উজ্জ্বল শেখের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই উজ্জ্বল শেখে গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও পক্ষীয় ফেরদৌস হোসেন মারা যান। এসময় গুরুতর আহত অপর পক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে এ ঘটনায় উজ্জ্বল শেখ পক্ষের আহত মুন্না শেখ নামে আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চকরিয়ায় বালু খেকোর হামলায় ৩ সাংবাদিক আহত

চকরিয়ায় বালু খেকোর হামলায় ৩ সাংবাদিক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং বালুর পয়েন্ট এলাকায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার)বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক, দৈনিক সংবাদের চকরিয়া প্রতিনিধি জিয়াবুল হক এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ বালু উত্তোলন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। 

একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে সাংবাদিকদের উপর।

হামলায় একজন সাংবাদিকের হাত ভেঙে যায় এবং অপর দুইজনও আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গুরুতর আহত সাংবাদিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এঘটনায় বিভিন্ন মহলের নিন্দার ঝড় উঠেছে।




 

Saturday, February 21, 2026

নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে ৪৫ জন কর্মীর  পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন

নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে ৪৫ জন কর্মীর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন



উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি;

নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মরত ৪৫ জন কর্মী গত সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব সাধারণ শ্রমিক। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নড়াইল টাউন মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে এসব কর্মীর জীবন এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটসোর্সিং কর্মীদের পদভেদে মাসিক ১৬ হাজার ১৩০ টাকা থেকে ১৭ হাজার  ৬৩০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়ার কথা এবং তা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার নিয়ম। তবে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বেতন তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয় না; বরং আগেই চেক বইয়ের পাতায় সই করিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রাপ্য বেতনের পরিবর্তে মাত্র ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাকি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কৌশলে আত্মসাৎ করছে।

এদিকে চাকরিতে যোগ দিতে গিয়েও কর্মীদের বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ বাকচি নামে এক আউটসোর্সিং কর্মী জানান, তিনি নড়াইল জেলা হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স অঞ্জনার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এই চাকরিতে ঢুকেছেন। এ বিষয়ে নার্স অঞ্জনা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি টাকা নিয়ে আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদারকে দিয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন কর্মী জানান, ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়েও তারা আজ দিশাহারা। তারা ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। এখন তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘নড়াইল টাউন মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের মালিক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি কোনো কর্মীর কাছ থেকে টাকা নেননি। তবে ৪৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৭৬ জন কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি এক অদ্ভুত যুক্তি দেন। তিনি বলেন, ৪৫ জনের বেতনের টাকা ৭৬ জনকে ভাগ করে দেওয়া হয় বলেই কর্মীদের প্রাপ্য কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জটিলতার কারণে বেতন দিতে দেরি হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

হাসপাতালের কর্মীদের এই মানবেতর অবস্থা এবং চলমান দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নড়াইল জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল গফফার কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।